নকশবন্দীয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার লতিফাগুলির স্থান

নকশবন্দীয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার লতিফাগুলির স্থান
ও অন্যান্য কয়েকটি জ্ঞাতব্য বিষয়

নকশবন্দীয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার লতিফাগুলির স্থান 
ও অন্যান্য কয়েকটি জ্ঞাতব্য বিষয়


হযরত ইমাম রব্বানী আহমদ ছারহান্দি (র.) বলিয়াছেন যে, মনুষ্যের দেহে দশটি লতিফা আছে, কলব, রূহ, ছের্র, খফি, আখফা, নফছ, আব (পানি), আতেশ (অগ্নি), খাক (মৃত্তিকা), বাদ (বায়ু)। প্রথম পাঁচটি আলমে-আমরের (সূক্ষ্ম বা অদৃশ্য জগতের) লতিফা, শেষোক্ত পাঁচটি আলমে-খলকের (স্থূল বা দৃশ্য জগতের) লতিফা। আলমে আমর উক্ত জগৎকে বলা হয়, যাহা খোদা তায়ালার হুকুম মাত্রই সৃষ্টি প্রাপ্তি হইয়াছিল। আলমে-খলক উক্ত জগৎকে বলা হয়, যাহা খোদা তায়ালার হুকুমে ক্রমান্বয়ে বিকাশ প্রাপ্ত হইয়াছে। আলমে-আমর আরশের উপরিস্থিত অদৃশ্য জগৎ, আলমে খলক আরশের নিম্নস্থিত দৃশ্য জগৎ।


কলব, রূহ, ছের্র, খফি, আখফা এই পাঁচটি জ্যোতিষ্মান লতিফার মূল স্থান অদৃশ্য জগতে আছে, কিন্তু মানব দেহের নির্দিষ্ট পাঁচটি স্থানে উক্ত লতিফাগুলির সংশ্রব আছে, এই হেতু সাধারণত উক্ত স্থানগুলিকে কলব, রূহ, ছের্র, খফি ও আখফা বলা হয়। কলবের স্থান বাম স্তনের দুই অঙ্গুলি নিম্নে, রূহের স্থান ডাহিন স্তনের দুই অঙ্গুলি নিম্নে, ছের্রর স্থান বাম স্তনের দুই অঙ্গুলি উপরিভাগে ঈষৎ বক্ষের দিকে, খফির স্থান ডাহিন স্তনের দুই অঙ্গুলি উপরিভাগে ঈষৎ বক্ষের দিকে, আখফার স্থান বক্ষঃদেশের মধ্যস্থলে, নফসের স্থান ললাটে। অদৃশ্য জগতে নফছ ও কলবের মূল একই স্থানে বায়ু ও রূহের মূল একই স্থানে, পানি ও ছের্রর মূল একই স্থানে, অগ্নি ও খফির মূল একই স্থানে, মৃত্তিকা ও আখফার মূল একই স্থানে নির্দিষ্ট আছে। প্রত্যেক লতিফার ভিন্ন ভিন্ন প্রকার রং আছে, কলবের রং হরিদ্রা, রূহের রং লোহিত, ছের্রর রং শ্বেত, খফির রং কাল, আখফার রং নীল এবং নফছ বিশুদ্ধ হওয়ার পরে বর্ণহীন বলিয়া বোধ হইয়া থাকে।  

আলমে-আমরের প্রত্যেক লতিফা এক একজন পয়গম্বর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ফয়েজ (আধ্যাত্মিক জ্যোতিঃ) প্রাপ্ত হইয়া থাকে, সেই হেতু বলা হয়ে থাকে যে, কলব হযরত আদম (আ.)-এর পদতলে, রূহ হযরত নূহ ও হযরত ইব্রাহিম (আ.) এই নবি দ্বয়ের পদতলে, ছেরর হযরত মুছা (আ.)-এর পদতলে, খফি হযরত ঈসা (আ.)-এর পদতলে ও আখফা হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদতলে আছে। তরিকত শিক্ষার্থীদল যোগ্যতা অনুসারে এক একজন পয়গম্বর কর্তৃক ফয়েজ প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। যিনি যে নবির অছিলায় ফয়েজ প্রাপ্ত হইয়া থাকেন, তিনি উক্ত নবির পদমর্যাদা অনুসারে যোগ্যতা ও সিদ্ধিলাভ করিতে সক্ষম হইয়া থাকেন। যিনি হযরত আদম (আ.)-এর অসিলায় বেলায়েত প্রাপ্ত হইয়া থাকেন, তাহাকে আদমিউল-মশরব বলা হয়, এইরূপ কোন তরিকত পন্থীকে ইব্রাহিমিউল-মশরব, মুয়ীবিউল মশরব, ইছাবিউল-মশরব বা মোহাম্মদীউল-মশরব নামে অভিহিত করা হয়।  
​মোহাম্মদীউল-মশরব শ্রেণীভুক্ত ওলিউল্লাহগণ মহবুব ও মুরাদ নামে অভিহিত হয়েন, ইহারা অতি সত্বর অল্পায়াসে ও অল্প তাওয়াজ্জুহ দ্বারা সমস্ত মকাম ও ছুলুকের পথ অতিক্রম করিতে পারেন। অবশিষ্ট পঞ্চ প্রকার শিক্ষার্থীগণ বহু সাধ্য সাধনায় মকাম ও ছুলুকের পথগুলি অতিক্রম করিতে পারেন। যতক্ষণ প্রত্যেক লতিফা আরশের উপরিস্থিত মূল স্থানে উন্নীত না হয়, ততক্ষণ উক্ত লতিফা ফানা (আত্মবিস্মৃতি) লাভে সমর্থ হয় না। যেরূপ শরীরস্থ প্রত্যেক লতিফার মূল আরশের উপরে আছে, সেইরূপ উক্ত মূল স্থানগুলির আর এক একটি মূল আছে। কলবের মূলের মূল تجلى افعال الہی তাজাল্লিয়ে আফয়ালে এলাহি, রূহের মূলের মূল صفات ثبوتيه ছেফাতে ছবুতিয়া; ছেররের মূলের মূল شيوئنات ذاتيه শিউনাতে-জাতিয়া, খফির মূল صفات سلبیه ছেফাতে ছুলবিয়া ও আখফার মূলের মূল شان جامع 'শানে জামে'। এই তরিকায় সত্বর উন্নতি লাভ করিতে প্রয়াস পাইলে, তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখিতে হইবে।  


প্রথম : যিনি যে লতিফার জেকোরে বা যে মাকামের মোরাকাবায় সংলিত থাকেন, তিনি সর্বদা সেই লতিফা বা মাকামের দিকে খেয়ান রাখিবেন।
দ্বিতীয় : পীরের উপস্থিতিতে তাঁহার সেবায় (খেদমতে) রত থাকিবেন এবং অনুপস্থিতিতে তাঁহার প্রগাঢ় ভক্তি ও প্রেম হৃদয়ে পোষণ করিবেন।
তৃতীয় : তাঁহার নিকট অধিক পরিমাণ তাওয়াজ্জুহ গ্রহণ করিবেন।
যাঁহারা উক্ত বিষয়গুলিতে ত্রুটি করিবেন, তাঁহাদের উন্নতি অল্পই হইবে এবং তরিকতের পথ অতিক্রম করিতে তাঁহাদের বহু বিলম্ব ঘটিয়া থাকে, আর যে শিক্ষার্থীদের লতিফার যোগ্যতা অধিক, তাঁহারা অল্প তাওয়াজ্জুহ ও অল্পায়াসে সত্বর মকামগুলি অতিক্রম করিতে পারেন। আর যাদের লতিফার যোগ্যতা কম, তাঁহারা বিস্তর সাধ্য সাধনায় ও বহু তাওয়াজ্জুহ গ্রহণে ক্রমান্বয়ে ঐ পথগুলি অতিক্রম করিতে পারেন।  
এই তরিক্লার যজবা অগ্রগণ্য ও প্রবল হইয়া থাকে। সাধকের লতিফাওলি উপরের দিকে ধাবিত হইয়া আরশের উপরিস্থিত স্ব-স্ব স্থানে উপস্থিত হওয়াকে যজবা নামে অভিহিত করা হয়। এই যজবার গুণে সামান্য তাওয়াজ্জুহ গ্রহণ করা সত্ত্বেও অল্পায়াসে অনেক আশ্চর্যজনক অবস্থা শিক্ষার্থীর লতিফাসমূহে প্রকাশিত হয় এবং অল্প সময়ে শিক্ষার্থী বহু উচ্চ মকামে উন্নীত হইতে পারে এবং শত বৎসর ব্যাপী পরিশ্রমে যে পথ সমূহের অতিক্রম করা শ্রমসাধ্য হয়, যজবা দ্বারা তাহা এক নিমিষে অতিক্রম করা সহজসাধ্য হইয়া উঠে।  
হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দী (কোঃ) পনর দিবস ছেজদা যোগে খোদাতায়ালার নিকট এই প্রার্থনা করিয়াছিলেন যে, দয়াময় খোদাতায়ালা! তুমি আমাকে এরুপ তরিকতের পথ প্রদর্শন করাও—যাহাতে অন্যান্য তরিকা অপেক্ষা অল্পতর সময়ে খোদাপ্রাপ্তি লাভ হইতে পারে, ইহাতে খোদাতায়ালা তাঁহার প্রার্থনা মঞ্জুর করতঃ তাঁহাকে এই নকশবন্দিয়া তরিকা প্রদর্শন করিয়াছিলেন। এই তরিকা অন্যান্য তরিকা অপেক্ষো খোদাপ্রাপ্তিতে অতি নিকট ও সহজ সাধ্য, অন্যান্য তরিকার চরম উন্নতিতে যে সমস্ত মকামে উন্নীত হওয়া যায়, ইহার প্রথমাবস্থায়।  


তৎসমস্তে উন্নীত হইতে পারা যায়। (১) তওবা (পাপ বিরতি), (২) এনাবত (খোদার দিকে প্রত্যাবর্তন), (৩) জোহদ (বৈরাগ্য বা বাসনা ত্যাগ), (৪) অরা (ধর্মভিরু হওয়া, পরহেজগারী), (৫) শোকর (কৃতজ্ঞতা), (৬) তাওয়াক্কুল (খোদাতায়ালার উপর নির্ভর করা), (৭) তছলিম (খোদাতায়ালার আদেশ-নিষেধকে বিনা আপত্তি গ্রহণ করা), (৮) রেজা (খোদাতায়ালার ইচ্ছাতে সন্তোষ লাভ করা), (৯) ছবর (ধৈর্যশীল হওয়া) এবং (১০) কানািয়াত (অল্পে তুষ্টি), এই দশটি বিষয়কে দশ মকাম (মকামেতে-আশারা) বলে।  
এই দশ মকাম অতিক্রম না করিলে বেলায়েতের পদপ্রার্থী একান্ত অসম্ভব। উক্ত দশটি মকাম অতিক্রম করাই ছায়ের ও ছুলুকের মূল উদ্দেশ্য। এই তরিকায় যজবা অগ্রগণ্য হওয়ায় তরিকতপন্থী দশটি লতিফা বিশুদ্ধ করিতে পারিলে উহার সঙ্গে সঙ্গে মোজাম্মতিভাবে দশটি মকামও অতিক্রম করিতে সক্ষম হইয়া থাকে, কিন্তু অন্যান্য তরিকায় ছুলুক সমাপনান্তে পৃথক পৃথক ভাবে উক্ত মকামগুলি অতিক্রম করিতে হয়। কতক শিক্ষার্থী এক মকাম হইতে অন্য মকামে উন্নীত হওয়া কালে মকামগুলি ও অবস্থার পরিবর্তন ভাব দর্শন করিতে সক্ষম হয়েন, এই শ্রেণীর মুরিদকে ছাহেবে-কাশফ বলা হয় এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী মকামগুলি দর্শন করিতে সক্ষম হইলেও অবস্থার পরিবর্তন ভাব বুঝিতে পারেন, এই শ্রেণীর মুরিদকে ছাহেবে-বেজদান বলা হয়। বর্তমানকালে বিশুদ্ধ হালাল খাদ্য দুর্লভ হওয়ায় অতি অল্প লোকেই ছাহেবে-কাশফ হইয়া থাকেন, কিন্তু উভয় শ্রেণী গন্তব্য পথে উপনীত হইয়া থাকেন। যেরূপ একটি লোক হজরুত পালনেচ্ছায় চৈতন্যবস্থায় পথের প্রত্যেক স্থল পরিদর্শন করিতে করিতে আরাফাত প্রান্তরে উপস্থিত হইল, আর একজন লোক হজ করণেচ্ছায় বহির্গত হইয়া পীড়িত হইয়া পড়িল এবং এমতাবস্থায় সঙ্গীগণ কর্তৃক আরাফাত প্রান্তরে নীত হইল। যদিও শেষোক্ত ব্যক্তি পথিমধ্যের প্রত্যেক স্থান পরিদর্শন করিতে পারিল না, অথচ তাহার হজক্রিয়া সম্পাদিত হইল।  
এইরূপ ছাহেবে কশফ শ্রেণীভুক্ত তরিকতপন্থীরা প্রত্যেক দায়েরার মকাম-গুলির পর্যবেক্ষণ করিতে করিতে বাঞ্ছিত স্থলে উপস্থিত হয়েন,  
পক্ষান্তরে ছাহেবে- বেজদার শ্রেণীর তরিকত শিক্ষার্থীগণ প্রত্যেক মকাম পরিদর্শন করতে অক্ষম হইলেও তরিকতের সীমানায় উপনীত হইতে পারেন। এই তরিকায় তরিকতপন্থীগণের পক্ষে অদৃশ্য বস্তু বা প্রত্যেক মকামের জ্যোতিঃ দর্শন করা আবশ্যকীয় বিষয় নহে। যাহারা বিশুদ্ধ হালাল খাদ্য ভক্ষণ করা সত্ত্বেও ছাহেবে কাশফ শ্রেণীস্থ (কামেল) পীরের নিকট বহু তাওয়াজ্জুহ গ্রহণ করিতে সক্ষম হয়েন অথবা নফি ও নফিয়ান-নফি শোগল বিশেষভাবে সমাপন করিয়া থাকেন, তাহারাই ছাহেবে কশফ (পরিদর্শক) শ্রেণীভুক্ত হইতে পারেন।  
​নফি ও নফিয়ান-নফির বিবরণ নফি এছবাতের জেকের স্থূলে লিখিত হইল। ইহাও স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, হারাম খাদ্য ভক্ষণ করিলে লতিফা যাতে অহাদিয়ত হইতে ফয়েজ আকর্ষণে সক্ষম হয় না, উক্ত ফয়েজ কর্তৃক বিকম্পিত হয় না এবং স্থায়ী মূলের দিকে ধাবিত হইতে পারে না, মনুষ্যের রক্ত মাংসপিণ্ড যাহা লতিফা নামে অভিহিত হইয়া থাকে, উহা খোদাতায়ালার নামের জেকোরে বিকম্পিত হইতে থাকে, কিন্তু সেই মানুষ যে সময় কোন অবৈধ খাদ্য ভক্ষণ করে, তখন উক্ত অবৈধ খাদ্যের কিয়দংশ রক্তমাংসে পরিণত হইয়া জেকের- কারীর রক্তমাংসের সহিত মিলিত হইলে জেকেরের প্রতিবন্ধক হইয়া যায়।  
​জনাব মাওলানা শাহ ছুফী গোলাম সালমানি মরহুম মগফুর ছাহেবের পরম ভক্ত শেখ খোদা বখশ ছাহেবের মুখে শ্রবণ করিয়াছি যে, “একজন বৃদ্ধ লোক কয়েক বৎসর যাবত হযরত কোতবোল আকতাব মাওলানা শাহ ছুফী ফতেহ আলি মরহুম মাগফুর ছাহেবের নিকট জেকের শিক্ষা করিতে যাইত, এক দিবস সেই লোকটি সজল নেত্রে উক্ত হযরতকে বলিতে লাগিল, হযরত! আমি এত দিবস চেষ্টা করিয়াও কোন ফল প্রাপ্ত হইলাম না, আমার লতিফা বিকম্পিত হইল না। তৎশ্রবণে হুজুর বলিলেন, তুমি হারাম খাদ্য ভক্ষণ করিয়া থাক, সেই হেতু তোমার এই দশা ঘটিয়াছে। তৎপরে হযরত ছুফী সাহেব তাহাকে একটি বিছানার উপর বসিতে বলিয়া স্বয়ং তাওয়াজ্জুহ প্রদান করিতে লাগিলেন, ইহাতে সেই বিছানাটি বিকম্পিত হইতে লাগিল। হযরত ছুফী সাহেব বলিতে লাগিলেন, যদি তোমার কলব হারাম ভক্ষণে গাঢ় কালিমায়ে আচ্ছন্ন না হইত, তবে বিছানায় ন্যায় বিকম্পিত হইত।"
পাঠক, কখনও লতিফার জেকের অতি প্রবল হইয়া উঠে বা মোরাকাবায় প্রবল বেগে জ্যোতি পতন হইতে থাকে, ইহাকে বাছত বলে। কখন জেকের করা যায় বা বন্ধ হইয়া যায় অথবা মোরাকাবা কালে কালিমার আবরণ প্রকাশিত হয়, ইহাকে কবজ বলে। এইরূপ কবজ কোন গোনাহ বা দূষিত খাদ্যের জন্য হইয়া থাকে। হযরত নবি করিম (ছা.) বলিয়াছেন, যে সময় কোন ঈমানদার ব্যক্তি গোনাহ কার্য করে, তখন একটি কাল তিলক তাহার হৃদয়ে অঙ্কিত হয়, তৎপরতে যদি সে ব্যক্তি তওবা-এস্তেগফার করে, তবে তাহার হৃদয় পরিমার্জিত হয়। যদি সে ব্যক্তি আরও অধিক গোনাহ করে, তবে উক্ত তিলক বিস্তৃতি লাভ করে, এমনকি তাহার হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলে। কোরআন শরিফে বর্ণিত আছে যে, “তাঁদের হৃদয়ে তাওয়াদের কৃতকার্যের জন্য মরিচা ধরিয়াছে।” এই আয়াত ও উক্ত হাদিছের একই মর্ম।- মেশকাত, তওবার অধ্যায়।  
মূল কথা এই যে, উক্ত প্রকার কবজ আপন কৃত গোনাহ কার্য্যের জন্য হইয়াছে ধারণায় জেকের ও মোরাকাবাবার পূর্বে বিনীতভাবে করুণ ক্রন্দনে খোদা তায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে এবং জেকের করিতে করিতে মধ্যে মধ্যে তিনবার পাঁচবার এইরূপ প্রার্থনা করিবে।  
يَا رَبِّ أَنْتَ مَقْصُودِي تَرَكْتُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ لَكَ أَتْمِمْ عَلَى نِعْمَتَكَ وَارْزُقْنِي وُصُولَكَ التَّامَّ *
মাওলানা শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলবি ছাহেব বলেন, আমি আমার পিতা মরহুমের মুখে শ্রবণ করিয়াছি যে, উক্ত প্রকার মোনাজাত করা জেকেরের প্রধান শর্ত এবং তিনি বলিয়াছেন, ইহার গুণে আমি অপূৰ্ব ফলপ্রাপ্ত হইয়াছি।  
হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মা'ছুম (কো.) বলিয়াছেন যে, জেকের কালে মনের দুশ্চিন্তা দূর করানার্থে বিনীতভাবে এইরূপ প্রার্থনা করিবে।  

إِلَى مَقْصُودِي مِيرَا تْوُ هِي أُور رِضَا تِيرَا مَطْلُوب هَے
تُو اِپْنِي محبت و معرفتَ هَمْكُو عَطَا كَرْ *
“হে খোদাতায়ালা, তুমি আমার বাঞ্ছনীয়, তোমার সন্তোষ লাভ আমার বাঞ্ছনীয়, তুমি আপন মহব্বত ও মারেফাত আমাকে প্রদান কর।”  
এইরূপ প্রার্থনা করাকে بازگشت ‘বাজ গান্ত’ বলা হয়। খোদাতায়ালার অনুগ্রহে পুনরায় লতিফা জারি হইবে বা জ্যোতি প্রবাহ পরিলক্ষিত হইবে। আর যদি হৃদয় গাঢ়তম কালিমায় আচ্ছন্ন হওয়ায় কবজ দূরীভূত না হয়, তবে পীরের নিকট পুনঃ তাওয়াজ্জুহ গ্রহণে ফয়েজ প্রবল হইবে।  

রেফারেন্স: তাছাওয়াফ-তত্ত্ব বা তরিকত দর্পণ
মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বশিরহাটী রহ: