বিশ্বখ্যাত সুফি সাধক, দিক-নির্দেশক এবং আধ্যাত্মিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, ইলমের জাহাজ মুফতী আযম কুতুবুল ইরশাদ আলা হযরত মেজলা হুজুর পীর কেবলা (রহ.)-এর পবিত্র ঈসালে সওয়াব মাহফিল অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, ধর্মীয় মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফুরফুরা শরীফের পবিত্র ময়দানে এই বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পবিত্র এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো আশেকান, ওলামায়ে কেরাম এবং ভক্ত-মুরিদানের উপস্থিতি ছিল স্মরণকালের মধ্যে চোখে পড়ার মতো।
পুণ্যময় এই মাহফিলে ফুরফুরা শরীফের ঐতিহ্যবাহী ধারা বজায় রেখে উপস্থিত হয়েছিলেন আওলাদে মুজাদ্দিদে জামান কুতুবুল আলম আলা হযরত দাদা হুজুর পীর কেবলা (রহ.)-এর সুযোগ্য ও সম্মানিত আওলাদগণ। তাদের উপস্থিতি মাহফিলের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও দ্বীপ্তিময় করে তোলে।
পবিত্র আসরের নামাজের পর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও দরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে মাহফিলের মূল ওয়াজ ও নসিহতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ওয়াজের প্রারম্ভেই আল্লামা সাইফুদ্দীন সিদ্দিকী (রহ.)-এর ছোট জামাতা সাহেব অত্যন্ত চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী বয়ান পেশ করেন। তিনি কুরআন ও হাদিসের আলোকে মহান আল্লাহ তাআলার প্রিয় আউলিয়া কেরামগণের সুউচ্চ মর্যাদা, সমাজ সংস্কারে সুফি সাধকদের অবদান এবং বিশেষ করে মেজলা হুজুর পীর কেবলা (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন, আদর্শ ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
মাহফিলের বিভিন্ন অধিবেশনে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা ও সুফিবাদের মূল দর্শনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ও দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন পীরজাদা মিনহাজুদ্দীন সিদ্দিকী, সৈয়দ বাহাউদ্দিন হুজুর, পীরজাদা শওবান সিদ্দিকী এবং পীরজাদা মেহরাব উদ্দিন সিদ্দিকী। বক্তাগণ বর্তমান যুগে যুবসমাজকে সঠিক পথের দিশা দিতে এবং কলব বা অন্তরকে পবিত্র করতে মহান সুফিদের দেখানো পথে চলার আহ্বান জানান।
মাহফিলে প্রধান ও শেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত মূল্যবান ও তাত্ত্বিক বয়ান পেশ করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা পীর মুফতী ইমরান উদ্দিন সিদ্দিকী। তিনি মেজলা হুজুর পীর কেবলা (রহ.)-এর সুউচ্চ তাকওয়া (আল্লাহভীতি), কঠোর শরিয়ত ও তরিকতের আমল এবং তাঁর ওপর অর্পিত বিশেষ ঐশ্বরিক জ্ঞান বা 'ইলমে লাদুন্নী'-এর বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ও বাস্তব নমুনা অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রাঞ্জল ভাষায় সমবেত জনতার মাঝে তুলে ধরেন। তাঁর এই জ্ঞানগর্ভ ও আধ্যাত্মিক বয়ান শুনে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জ্ঞানগর্ভ নসিহত ও আলোচনা শেষে মাহফিলে সমবেত হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মনঃসংযোগের উদ্দেশ্যে গভীর মগ্নতায় কিছুক্ষণ জিকির-আসকার করেন। জিকিরের পর এক পরম আবেগঘন ও অশ্রুসিক্ত আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের পবিত্র ঈসালে সাওয়াব মাহফিলের সফল সমাপ্তি ঘটে। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মুসলিম বিশ্বের শান্তি, দেশের কল্যাণ এবং সমগ্র মানবজাতির রোগ-বালাই ও দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।